Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

খাদ্য উৎপাদন

খাদ্য উৎপাদন

বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের দেশ। প্রাকৃতিকভাবেই উর্বর জমির এ দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। বিবিএস ২০১৪-১৫ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৩০ লাখ এবং প্রতি বছর ২০-২২ লক্ষ লোক জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি ১.৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন লোক সংখ্যা হবে প্রায় ২৩.০কোটি হবে। এই বাড়তি জনগোষ্ঠির খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ আবশ্যক। জিডিপিতে কৃষি সেক্টরের অবদান ১৫.৩৩% এবং কৃষি সেক্টরে ফসল খাতের অবদান ৫৪.২৭% (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬)। বৈশ্বিক হিসেবে, বিশ্বের ১৬ কোটি হেক্টর ধানি জমিতে ৪৭ কোটি টন চাল উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের যে জনসংখ্যা হবে তার চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজন হবে আরও ২৫ ভাগ বাড়তি উৎপাদন। ইউএনডিপির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ২.৮৫ ভাগ এবং ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১.২২ ভাগে। বর্ণিত হিসেবে বাংলাদেশে ২০৫০ সালে  জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২১ কোটি ৫৪ লাখ এবং স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০৭১ সালে ২৪ কোটি ২৮ লাখে এসে স্থিতিশীল হবে (BRRI ২০১৫)। সর্বোপরি ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার চিন্তা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে (BRRI ২০১৫)।

rice1-300x225

সরকারের জনবান্ধব কৃষিনীতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সারে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি এবং তেলের মুল্য হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, উন্নত মানের ধানের বীজ সরবরাহ, প্রতিকূলতা সহিঞ্চু জাত উদ্ভাবন ইত্যাদি কর্মকান্ডের ফলে বিগত বছরগুলোয় চালের উৎপাদন ৩.৪ লক্ষ টন হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দানা শস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অভূত সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে চালের উৎপাদন ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন। শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে চালের উৎপাদন হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টন এবং এর বিপরীতে ২০৫০ সালে ২১ কোটি ৫৪ লাখ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে চাল প্রয়োজন হবে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টন অর্থাৎ ২০৫০ সালে দেশে ৯৩ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।

বিগত ১০ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রধান প্রধান ফসল যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ডাল, তৈলবীজ, ফল ও সব্জি ফসলের উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শস্য বহুমুখীকরণ, শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, গবেষণা ও সম্প্রসারণে অগ্রগতি সর্বোপরি সরকারের উপকরণ বিতরণ পলিসি এ সাফল্যের কারণ। টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ধানের আধুনিক জাতগুলোর কৌলিতাত্ত্বিক অর্জন বা জেনেটিক গেইন ত্বরান্বিতকরণ। দেশে প্রতি বছর ফসলি জমি কমছে ০.৭৩% বা ৬৮,৭৬০ হেক্টর হারে (সূত্র এসআরডিআই-২০১৩)। ফলে চাষাবাদের  জমি সম্প্রসারণের সুযোগ কম। তাই দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলা, উপকরণসমূহ ব্যবহারে দক্ষতা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি, কৃষি পণ্য সংরক্ষণ ও বিতরণসহ ক্রমহ্রাসমান আবাদি জমিতে ক্রমবর্ধমান বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। এমতাবস্থায়, খাদ্য উৎপাদনের আনুভূমিক সম্প্রসারণ (Horizontal Expansion) রুদ্ধ হয়ে পড়ায় উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (Vertical Expansion) অনিবার্য। ইতোমধ্যে ফসল উৎপাদনে উচ্চ ফলনশীল জাতের (HYV) সাথে সংকর (Hybrid)  জাত ব্যবহৃত হচ্ছে। বিটি (Bit) জীন সমৃদ্ধ বেগুন ও RB জীন সমৃদ্ধ আলুর নতুন জাত ও অন্যান্য জিএমও (GMO) বীজ  দ্বারা ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কৃষি উপকরণগুলোর মধ্যে বীজ হলো অন্যতম। শুধুমাত্র ভাল বীজ ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদনশীলতা প্রায় ২০% বাড়ানো যায়। বাংলাদেশের কৃষিতে ২৩% মান সম্পন্ন বীজ ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ২০% বীজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষাপূর্বক প্যাকেটজাত করে কৃষকদের নিকট সরবরাহ/বিক্রি করা হয়ে থাকে। অবশিষ্ট ৮০% বীজ পরীক্ষা বিহীনভাবে খোলা অবস্থায় বিক্রি করা হয়;  যা দিয়ে কাংখিত ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়।

সরকার ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে খাল খনন, নদীতে রাবারড্যাম স্থাপনসহ বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সেচ সাশ্রয়ী ফসল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নুতনভাবে শস্য বিন্যাস (Cropping pattern) ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও শস্যের নিবিড়তা (Cropping Intensity) বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে আধুনিক জাতগুলোর গড় ফলন ৩.১৭ টন/হেক্টর। অত্যাধুনিক প্রজনন কৌশল অবলম্বন ও মাঠ পর্যায়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গড় ফলন ৪.৮২ টন/হেক্টর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য প্রতি বছর ০.৪৪ টন/হেক্টর হারে জেনেটিক গেইন ত্বরান্বিত করতে হবে। জনগণের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে “পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা” কার্যক্রম পরিচালনার ফলে খাদ্য তালিকায় গুণগত পরিবর্তন আসছে। জনগণ ভাতের পরিবর্তে রুটি ব্যবহার করছে এবং ফলমূল ও সবজির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত ও টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করে গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচন করা হচ্ছে সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা, আঁখ এবং অন্যান্য শস্য যেমনঃ কন্দাল ফসল, ডাল, তৈলবীজ, শাকসবজি, ফল, ফুল, মসলা ইত্যাদির নতুন জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণবিদগণ বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চল অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ফসলের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থা যেমন-

ifferent agro-ecological zones. Various adverse conditions such as-